হাস্যরস – ৩

সোমবার (২৭/১০/২০০৮) প্রথম আলো – রস আলো

গভীর রাতে বাবার কাছে বই নিয়ে হাজির ছেলে।
-বাবা, চাঁদ বেশি দূরে, না নিউইয়র্ক?
-তুই অনেক বড় হয়েছিস, বুঝতে শিখেছিস! বোকার মতো প্রশ্ন করিস কেন? আকাশের দিকে তাকা, তারপর উত্তর দে। কী দেখছিস আকাশে?
-চাঁদ।
-ঠিক। নিউইয়র্ক কি দেখতে পাচ্ছিস?
-না।
-তাহলে এবার কী সিদ্ধান্ত নিবি, তা নিয়ে মাথা ঘামা।

এই চুকচাটা বুঝি চালাক!
ভূতাত্ত্বিককে নিয়ে সে গেছে বরফাচ্ছাদিত বনে। এ সময় একটা শ্বেতভালুক তেড়ে এল।
চুকচা দ্রুত স্লেজগাড়িতে উঠে বসল।
ভূতাত্ত্বিক বলল, কোনো লাভ নেই। শ্বেতভালুকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারবে না।
চুকচা বলল, শ্বেতভালুকের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। তোমার চেয়ে আগে যেতে পারলেই হলো।

অশুভ
রাজার মেজাজ খারাপ। রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে শিকারে যাওয়ার পথে হোজ্জা সামনে পড়ে গেলেন।
‘শিকারে যাওয়ার পথে হোজ্জার সামনে পড়ে যাওয়াটা আমার ভাগ্যের জন্য খারাপ’, প্রহরীদের রাগত গলায় বললেন রাজা। ‘আমার দিকে ওকে তাকাতে দিয়ো না-চাবুকপেটা করে ওকে পথ থেকে সরিয়ে দাও।’
প্রহরীরা তা-ই করল।
শিকার কিন্তু ভালোই হলো।
রাজা হোজ্জাকে ডেকে পাঠালেন।
‘আমি সত্যি দুঃখিত, হোজ্জা। ভেবেছিলাম তুমি অশুভ। কিন্তু তুমি তা নও।’
‘আপনি ভেবেছিলেন আমি অশুভ!’ হোজ্জা বললেন। ‘আপনি আমাকে দেখার পর ভালো শিকার করেছেন। আর আমি আপনাকে দেখে চাবুকপেটা খেয়েছি। কে যে কার অশুভ, বুঝলাম না।

হাস্যরস – ২

শুক্রবার (২৪/১০/২০০৮) প্রথম আলো – সম্পাদকীয়/উপসম্পাদকীয়

গাধা
একবার ব্যবসায়ী এক লোক এক গ্রামে এসে ঢোল বাজিয়ে ঘোষণা করল, প্রতি গাধা ১০ ডলার দামে গ্রামের সব গাধা সে কিনে নেবে। প্রস্তাব পাওয়ামাত্রই গ্রামবাসী যে যেখান থেকে পারে গাধা ধরে এনে লোকটির কাছে বিক্রি করা শুরু করল। যখন গাধার সরবরাহ একসময় কমে এল, তখন লোকটি প্রস্তাব করল, এখন থেকে সে গাধাপ্রতি ২০ ডলার দেবে। গ্রামবাসী ফের দ্বিগুণ উৎসাহে গাধা খোঁজা শুরু করল। কিছু দিন যেতে না যেতেই গাধার সরবরাহ একদমই কমে এল। তখন লোকটি জানাল, এবার সে গাধাপ্রতি ২৫ ডলার দেবে। কিন্তু তত দিনে গ্রামে আর গাধা নেই, ফলে দাম বাড়ালেও গাধার বড় আকাল পড়ে যায়। লোকটি তখন বলল, সে গাধার দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, এখন থেকে প্রতিটি গাধা সে ৫০ ডলার দামে কিনে নেবে। কিন্তু খুব জরুরি কাজে তাকে শহরে যেতে হচ্ছে। নিজের জায়গায় একজন সহকারী রেখে যাচ্ছে, গ্রামবাসী তার কাছে গাধা বিক্রি করতে পারবে।
সহকারী লোকটি তখন গ্রামবাসীকে ডেকে বলল, দেখ, গ্রামে তো আর গাধা নেই, কিন্তু এই লোক তার নিজের কাছে অসংখ্য গাধা আটকে রেখেছে। আমি সেসব গাধা প্রতিটি ৩৫ ডলার করে বিক্রি করব। লোকটি শহর থেকে ফিরে এলে তোমরা তার কাছে ৫০ ডলার করে ফের তা বিক্রি করে দেবে। গ্রামের লোক হিসাব করে দেখল-বাহ, এ তো ভালো ব্যবস্থা! কোনো খাটুনি ছাড়াই মুনাফা মেলে। তারা যে যেখান থেকে পারল, নিজের সব সঞ্চয় সংগ্রহ করে সেই লোকের কাছ থেকে গাধা কেনা শুরু করল। চটপট সব গাধা বিক্রি হয়ে গেল, কিন্তু সেই লোক আর ফিরে আসে না। তার সহকারীও সময় বুঝে সটকে পড়ল। গ্রামবাসী তাদের সব টাকা-পয়সা হারিয়ে দেখে তাদের চারদিকে কেবল গাধা আর গাধা।

কর্ডলেস টেলিফোনে ক্রিং ক্রিং। রিসিভার ওঠাল এক শিশু। তারপর ফিসফিস করে বলল, হ্যালো।
- হ্যালো, তোমার বাবা বাড়ি আছে?
- আছে, কিন্তু সে ব্যস্ত।-ফিসফিস করে বলল শিশুটি।
- মা আছে?
- হ্যাঁ, মা আছে। কিন্তু মাও ব্যস্ত।-আবার ফিসফিসে কণ্ঠ।
- তাহলে কার সঙ্গে কথা বলব? বাড়িতে আর কেউ আছে?
- আছে। পুলিশ কাকুরা আছে, দমকল কাকুরা আছে।
- তাহলে অন্তত তাদের কাউকে দাও। খুব জরুরি কথা আছে।
- তাদেরও ডাকা যাবে না। তারাও খুব ব্যস্ত।
- হায় ঈশ্বর! কী নিয়ে তারা এত ব্যস্ত?
- আমি লুকিয়ে আছি। সবাই আমাকে খুঁজছে।

কার স্ত্রী কতটা ভালো তা নিয়ে কথা বলছে তিন বন্ধু।
প্রথম বন্ধুঃ আমার তানিয়ার কোনো তুলনা নেই। চা খেতে গিয়ে আমার হাত থেকে কাপ পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তানিয়া সেটা নিয়ে এমনভাবে আঠা লাগিয়ে দিল যে বোঝারই উপায় নেই ওটা ভেঙেছিল।
দ্বিতীয় বন্ধুঃ একবার আমার প্যান্ট ছিঁড়ে গেল। আমার স্‌ভেতা এমনভাবে তা সেলাই করে দিল, দেখে বুঝতেই পারবে না ওটা কোনোকালে ছিঁড়ে গিয়েছিল।
তৃতীয় বন্ধুঃ আমার ল্যুবা আমার শার্টটা ধুয়ে দিয়েছে, তাকিয়ে দেখ, বোঝার উপায়ই নেই যে ওটা ধোয়া হয়েছে।

হাস্যরস – ১

সোমবার (২১/৭/০৮) প্রথম আলো – রস আলো

বাড়ি ফিরেছে স্বামী। স্ত্রী তখন কাঁদছে।
-কী হয়েছে?
-বিড়াল আমার বানানো কেকটা খেয়ে ফেলেছে!
-কষ্ট পেয়ো না। ও বিড়াল তো আর ফিরবে না। আমি নতুন একটা বিড়াল কিনে দেব।

-আপনি কি এখানে আমার স্বামীকে দেখেছেন? এক ঘণ্টা আগে তাঁর সঙ্গে এখানে এসে আমার দেখা করার কথা ছিল।
-তিনি দেখতে কেমন?
-কেমন···রাগে একেবারে লাল হয়েই তো থাকার কথা!

মরুভূমিতে দেখা হলো এক গাধা আর এক হাবিলদার মেজরের।
গাধা জিজ্ঞেস করল, তুই কে রে?
হাবিলদার মেজর এদিক-ওদিক তাকিয়ে আশপাশে কেউ নেই দেখে গর্বের সঙ্গে বলল, আমি মেজর জেনারেল। তুই কে?
গাধা এদিক-ওদিক তাকিয়ে আশপাশে কেউ নেই দেখে বলল, আমি ঘোড়া।

-ডাক্তার, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
-মর্গে।
-মর্গে মানে! আমি তো এখনো মরিনি।
-আমরা তো এখনো মর্গ পর্যন্ত পৌঁছাইনি।

ফুলে যাওয়া ঠোঁট নিয়ে ক্লাসে হাজির ভোভকা। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে তোর?
-রোববার বাবার সঙ্গে লেকে গিয়েছিলাম মাছ ধরতে। ঠোঁটের ওপর এক মাছি এসে বসেছিল।
-তাতে কী! মাছি বসলে কি ঠোঁট ফুলে যায়? তুই ওটাকে তাড়িয়ে দিতে পারলি না?
-সেটাই তো চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা হাতের লাঠিটা দিয়ে মাছিটা মেরে ফেলল।

স্ত্রীঃ ওগো শুনছ, আমি না দিনে দিনে উইক হয়ে যাচ্ছি।
স্বামীঃ ঠিকই তো আছে। দিনে দিনেই তো উইক হয়-সাত দিনে এক উইক।

একটি এস,এম,এস – এই মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখেছি-পৃথিবীর সব গাধা মারা গেছে। তারপর থেকেই তোমার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি···বেঁচে থাকলে প্লিজ একটা মিসকল দাও।

তরুণঃ তুমি অনেক সুন্দর। আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি। তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?
তরুণীঃ নাহ! তবে তোমার পছন্দের আমি প্রশংসা করি।

পরোপকার
পরোপকার করার ওপর স্কুলে লেকচার শুনে বাসায় ফেরার পথে নিলয় দেখল, এক বৃদ্ধ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভ্রূ কুঁচকে চলন্ত গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন। নিলয় তাঁকে সালাম দিয়ে বলল, ‘আপনি রাস্তার ওপারে যাবেন, তাই তো? আসুন, আমি রাস্তা পার করে দিচ্ছি।’
বৃদ্ধের শত বাধা উপেক্ষা করে নিলয় মোটামুটি টেনেহিঁচড়ে তাঁকে রাস্তা পার করে দিল। রাস্তার ওপারে এসে বৃদ্ধ চিৎকার শুরু করল, ‘ফাজিল ছেলে। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম বাসের জন্য। আর তুই আমাকে রাস্তার এপারে এনে দাঁড় করালি?’
নিলয় দৌড়ে পালাল। কিছু দূর গিয়ে দেখল, এক লোক ভ্যানের পাশে বড় একটা বাক্স হাতে দাঁড়িয়ে আছে। নিলয় এবার উপকার করার আগে অনুমতি চাইল, ‘আমি কি বাক্সটা ধরে সাহায্য করতে পারি?’
-ওহ, অবশ্যই।
নিলয় বাক্সের এক মাথা ধরল। দুজনে অনেকক্ষণ কসরত করল। কিন্তু কিছুতেই কাজ হলো না। লোকটি বলল, ‘আশ্চর্য! বাক্সটা তো খুব ভারী না। অথচ দুজনে মিলেও ভ্যানে ওঠাতে পারছি না।’
নিলয় জিভে কামড় দিয়ে বলল, ‘আপনি বাক্স ওঠাচ্ছেন? আমি তো নামাচ্ছি···।

তাম্রমুদ্রা
একদিন হোজ্জা নদীর তীরে বসে ছিলেন। ঠিক সেই সময় ১০ জন অন্ধ লোক তাঁর কাছে এসে অনুরোধ করল তাদের নৌকায় করে ওপারে নিয়ে যেতে। হোজ্জা কাজটা করে দিতে রাজি হলেন ১০টি তাম্রমুদ্রার বিনিময়ে। হোজ্জা অন্ধ ১০ জনকে নৌকায় তুলে বৈঠা মেরে এগিয়ে যেতে লাগলেন। নৌকাটা ছিল বেশ ছোট, আবার হোজ্জা নৌকা ভালো বাইতে পারতেন না। তাই নৌকা টালমাটাল হতে লাগল। ফলে একজন অন্ধ ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে গেল। অন্য অন্ধরা জিজ্ঞেস করল হোজ্জাকে, কী ঘটেছে? জবাবে হোজ্জা বললেন, ‘ভয়ের কিছু নেই, সব ঠিক আছে, তোমাদের নয়টি তাম্রমুদ্রা দিলেই চলবে।’

তাই আমি বহন করছি
হোজ্জা বাজারে গিয়ে এক বস্তা আলু কিনলেন। বস্তাটি নিজের কাঁধে নিয়ে গাধার পিঠে চেপে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। পথে বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর দেখা হলো। তারা বলল, ‘হোজ্জা, কাঁধে বস্তা নিয়ে এক হাতে ওটাকে ধরে অন্য হাতে গাধাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ মুশকিল। তুমি কেন বস্তাটা গাধার পিঠের ওপর রাখছ না?’ হোজ্জা জবাবে বললেন, ‘গাধাটা আমার ওজন বহন করতে পারছে এটা ঠিক, তবে এর অতিরিক্ত ওজন বহন করতে পারবে না, তাই বস্তাটা আমিই বহন করছি।’

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.