বুধবার (২৩/৭/০৮) প্রথম আলো – খোলা কলম
মাত্র কয়েক বছর আগেও এসএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে শ পাঁচেক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমরা গর্ব করেছি। এবার পেয়েছে প্রায় ৪২ হাজার, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পেয়েছে আরো প্রায় সাড়ে ১০ হাজার। এটা কি হঠাৎ মেধাবীদের স্কুরণ, নাকি জিপিএ মূল্যায়ন পদ্ধতির গুণ, তা বলা মুশকিল। তবে জিপিএ-৫-এর এই আতিশয্যে প্রকৃত মেধাবীদের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত বিষয়সহ ১১টি বিষয়ে এ-প্লাস পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী এ বছর তাদের পছন্দের ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। কারণ তাদের বয়স কম। ১০ বছর আগে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির সময় প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের বয়স বেশি নয়। ঢাকায় ভালো স্কুলে শিশুদের ভর্তির সময় ডান হাত দিয়ে বাঁ কান ছোঁয়ার পরীক্ষা নেওয়া হয়। সফল হলে প্রমাণিত হয় বয়স বেশি, আর তাই তাকে ভর্তি করা হয় না। যাদের বয়স কম, তারা ভর্তির সুযোগ পায়। আর সেটাই এখন তাদের কাল হলো! ফল খুব ভালো কিন্তু বয়স কম, তাই ভর্তির সুযোগ নেই। সেখানে বেশি বয়সের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রকৃত মেধাবী অনেককে যেতে হয়েছে দ্বিতীয় সারির কলেজে। বয়সের ভিত্তিতে ভর্তির এই উদ্ভট নিয়মটি যে বিভ্রান্তিকর ও পরিত্যাজ্য, তাতে সন্দেহ নেই।
আগে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ ছিল; স্টার মার্কস ছিল, সেরাদের সেরা প্রথম ২০ জনের ছবি ছাপা হতো কাগজে। একটা প্রতিযোগিতা ছিল। ভালো শিক্ষার্থীরা তারকা লাভ করা এবং প্রথম-দ্বিতীয় হওয়ার জন্য পড়াশোনায় বেশি মন দিত। কিন্তু এর কিছু সমস্যাও ছিল। প্রথম, দ্বিতীয় হওয়ার জন্য একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছিল। কিছু অসাধু কোচিং সেন্টার দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করার বাণিজ্যে শিক্ষাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আবার আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজনও দেখা দেয়। এ অবস্থায় জিপিএ পদ্ধতির প্রবর্তন। প্রথমে সবাই আমরা একে স্বাগত জানাই। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই যে ব্যবস্থাটি ভেতর থেকে সারশূন্য হয়ে পড়বে, তা ভাবা যায়নি। প্রকৃত মেধাবীদের অনেকে মনে করে এ পদ্ধতিটি তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ভালো ফল করেও তারা ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। তারা হতাশায় ভেঙে পড়ছে। মেধাবীদের হতাশ হওয়ার সংগত কারণ আছে কি না, সে বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, সবাইকে ঢাকার সেরা কলেজেই পড়তে হবে কেন। আর কলেজের ভালো-মন্দ তো আপেক্ষিক একটি বিষয়। গত বছরও তো অনেক শিক্ষার্থী প্রচলিত অর্থে নামীদামি কলেজে ভর্তি হতে পারেনি, তাতে যে তাদের শিক্ষাজীবন ভেঙে পড়েছে সে রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। তাঁর এ যুক্তি মেনে নিয়েও বলা যায়, সমস্যার আরেক পিঠও আছে।
এদিকে আলোকপাত করেছেন বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি যথার্থই মনে করেন যে বর্তমান পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সেরা মেধাবীদের টানতে অক্ষম, কারণ তারা জানে যে ৮০ পাওয়া যা, ৯৯ পাওয়াও তা-ই। সবাই ‘এ’ প্লাস! তাহলে অতি মেধাবীরা কেন ১০০-তে ১০০ পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত খাটবে। সুতরাং এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি মেধা বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। অধ্যাপক কায়কোবাদ বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতির যে সংস্কার চেয়েছেন, তাঁর যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যাবে না। এটা তো অবশ্যই আমাদের ভাবতে হবে যে মুড়িমুড়কি সমান দর হয়ে গেলে প্রকৃত মেধাবীরা গুটিয়ে যাবে।
সে জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী মনে করেন, অন্তত সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত নম্বরকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, ৯০-১০০ ধাপে ‘এ’ প্লাস এবং ৮০ থেকে ৯০ শুধু ‘এ’। এর নিচে ধাপে ধাপে ‘এ’ মাইনাস ইত্যাদি। এর সুবিধা হলো, মেধাবীরা আরও ভালো করার বাড়তি প্রেরণা পাবে। তাঁর এ চিন্তার ভিত্তিতে বর্তমান গ্রেড-সীমার পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ১০০ নম্বরের অংশটিকে দুইয়ের পরিবর্তে চারটি গ্রেডে ভাগ করলে সেরা শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন আরও নিবিড়ভাবে করা সম্ভব। কিন্তু তার পরও সমস্যা থেকে যাবে।
আমাদের দেশের গ্রেডিং পদ্ধতি নিয়ে অনেক শিক্ষাবিশেষজ্ঞ চিন্তাভাবনা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে শহরে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজে নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী সুকোমল মোদক সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র রচনা করেছেন। তিনি বুয়েটে পড়াশোনা করেছেন। বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে তিনি যে মত ব্যক্ত করেছেন, তার মূল কথা হলো বর্তমান লেটার গ্রেডিং পদ্ধতির সংস্কার করে তা বিশ্বমানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে হবে। মূল্যায়ন পদ্ধতি এমন হতে হবে, যেন মেধাবীরা ক্রম অনুযায়ী তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে পারে। এ জন্য বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তে অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত ‘পারসেন্টাইল র্যাংকিং’ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার কথা তিনি বলেছেন। এর সুবিধা হলো, একজন শিক্ষার্থী মেধার বিচারে কতজনের ওপরে আছে, তার সেই তুলনামূলক অবস্থান নির্ণয় করা যাবে। এতে বিভিন্ন বছর প্রশ্নপত্র কঠিন বা সহজ হওয়ার কারণে নম্বর প্রাপ্তিতে যে হেরফের হয়, তা আপনাআপনি দূর হবে। আবার দেশের বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও বিভিন্ন পরীক্ষকের মূল্যায়নের মধ্যে যেসব পার্থক্য থাকে, বিচ্যুতি থাকে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার ব্যবস্থাও এতে থাকবে। এ দিকটি আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির জন্য দেশের মধ্যে মূল্যায়নমানকে একই মাত্রায় তুলনীয় হতে হবে। না হলে ঢাকা বোর্ড, যশোর বোর্ড আর মাদ্রাসা বোর্ড প্রভৃতির অধীনে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন একই মানদণ্ডে বিচার্য হবে কীভাবে। সুকোমল মোদক তাঁর গবেষণাপত্রটি ১৩-১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘একুশ শতকে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে আরও বিষদভাবে জানতে আগ্রহীরা ই-মেইলে (sukomal_modak@yahoo.com) যোগাযোগ করতে পারেন।
আমরা চাই পরীক্ষার মূল্যায়নে বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হোক, যেন শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী মোটামুটি সঠিক মানের মূল্যায়ন লাভ করতে পারে। যদি একটি গ্রহণযোগ্য মানের মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকে, তাহলে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের পরীক্ষার সনদ সমাদৃত হবে। সে জন্য অবশ্য পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থাটি ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি আমাদের দেশের পরীক্ষার মূল দুটি স্তর। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যেন আবার নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্যই এ দুটি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন আরও বেশি মানসম্পন্ন হতে হবে। এটা ঠিক যে যুক্তরাষ্ট্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য স্যাট, জিআরই প্রভৃতি পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু সেখানে হাইস্কুল পর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বলতে গেলে তেমন কোনো পরীক্ষাই দিতে হয় না। বছর শেষ হলেই পাস, পরীক্ষা সেখানে নামমাত্র। ১২ বছরের স্কুলশিক্ষার পর জিইডি (জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট) পরীক্ষা শেষে তাদের হাই স্কুল ডিপ্লোমা দেওয়া হয়। সুতরাং এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদা পরীক্ষা না নিয়ে উপায় নেই। আমাদের দেশেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা দিতে হয়। কারণ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য নয়। এখানে যদি আমরা নির্ভরযোগ্য ও মানসম্পন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারি, যদি সেখানে মেধার বিচার নিয়ে প্রশ্ন না থাকে, তাহলে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদা পরীক্ষার প্রয়োজন থাকবে না।
তবে এখানে আরেকটি দিক বিবেচনায় রাখা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যদি আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা না রাখা হয়, তাহলে যে লাখ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেয় তাদের বেশির ভাগই পরীক্ষা ও খাতা দেখার কড়াকড়িতে সম্মানজনক ফলাফল লাভে ব্যর্থ হবে। এটা কি ঠিক হবে? অন্যদিকে, কেউ হয়তো গণিত, পদার্থবিদ্যা প্রভৃতিতে ভালো, কিন্তু জীববিজ্ঞানে খারাপ। এ জন্য সে এইচএসসিতে খুব ভালো ফল না করলেও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অনায়াসে ভালো করতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে। তাই পাবলিক পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আলাদা রাখাই ভালো। ভারতে এ ব্যবস্থা আছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাগুলো মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি এসব পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যেন মোটামুটি সম্মানজনক ফল লাভ করতে পারে তা নিশ্চিত করা দরকার। সেখানে যদি জিপিএ-৫-এর ছড়াছড়ি থাকে, থাকুক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তার মেধা বিচারের জন্য ভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেমন হয় মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও এ রকম ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি নিজেদের বনেদি দাবি করে শুধু তাদের ক্ষেত্রে পৃথক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলতে পারে। এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অবশ্যই ঠিক করে নিতে হবে। মূল কথা হলো, উচ্চশিক্ষার জন্য মেধাবিচারের স্বতন্ত্র একটি ব্যবস্থা রাখার কথা সক্রিয় বিবেচনায় রাখা উচিত।
আমাদের দেশে শুধু পরীক্ষা ও মূল্যায়নেই নয়, শ্রেণীকক্ষে পাঠদানেও দৈন্য লক্ষ করার মতো। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। একজন শিক্ষক যেভাবে একটি গণিতের সমস্যার সমাধান শ্রেণীকক্ষে দেখিয়ে দেন, তার বাইরে অন্য কোনো সমাধান কেউ লিখলে সেটা শুদ্ধ হলেও শিক্ষক সানন্দে তাকে গোল্লা দিয়ে বসেন। কারণ তিনি ভাবেন, তাঁর নির্দেশিত সমাধান ছাড়া আর সবই ভুল। এ অবস্থায় একমাত্র মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শীরাই তথাকথিত মেধাবী বলে পরিগণিত হয়। অথচ মুখস্থ বিদ্যা সৃজনশীলতার সবচেয়ে বড় শত্রু।
ব্রিটেনে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন শিক্ষার্থীর কোন দিকে বিকাশ লাভের সুযোগ বেশি। কেউ হয়তো স্কুল পাসের পর শিল্পকলা, কেউ কারিগরি বিদ্যা, আবার কেউ হয়তো গবেষণা বা অধ্যাপনার লাইনে গেলে ভালো করবে। সে অনুযায়ী তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবন পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা সেখানে শিক্ষা বিভাগের একটি বড় কাজ। কার সাফল্য কোন দিকে, সেটা নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আমাদের মতো কলেজ পাস করে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। যার যার ঝোঁক ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশা বা বিভিন্ন ধারার শিক্ষা লাভের সুযোগ তাদের থাকে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকেই বিভিন্ন মেধার বিকাশের সুযোগ রয়েছে। যেমন, কেউ যদি ষষ্ঠ শ্রেণীতেই গণিতে বিশেষ পারদর্শিতা দেখায়, তাহলে তাকে আলাদাভাবে উচ্চতর গণিত শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এসব সুযোগ নেই। কিন্তু সেদিকে যেতে হবে। না হলে মেধার বহুমাত্রিক বিকাশ হবে না।
আপাতত আমরা গ্রেডিং ব্যবস্থা সংস্কারে মনোযোগী হই। এবং সেখানে সতর্ক থাকতে হবে যেন দুদিন পরপর পরিবর্তন না করতে হয়। কারণ একেক বছর একেক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলে তা শিক্ষার্থীদের হতাশ করে ফেলে। আমরা সেটা চাই না।
আব্দুল কাইয়ুমঃ সাংবাদিক।
ব্যক্তিগত মতামত